বুধবার, ২৭ মে, ২০২০

কাঠ গোলাপ এর আদ্য পান্ত

  • কাঠ গোলাপঃ

বাহারী এই ফুলের দেখা এখন আমাদের দেশে প্রায়শই মেলে।
কাঠগোলাপ বা ইংরেজীতে ফ্রাঙ্গিপানি মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের ফুল, তবে সুদূর মেক্সিকো, দক্ষিণ আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল, ভেনেজুয়েলা ও দক্ষিণ ভারত থেকে এসে আলো ছড়াচ্ছে আমাদের উদ্যানে।
গোলাপ মানুষের কাছে ভালবাসার প্রতীক হিসেবে সমাদৃত, ঠিক গোলাপের মতোই মোহময়তায় কাষ্ঠল বৃক্ষে ফোটা এই কাঠগোলাপও যুগে যুগে ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে অনেকের কাছেই সমাদৃত।
 শুধু কাঠগোলাপ নয়, টেম্পল ট্রি, ডেড ম্যানস ফিঙ্গার, গুলাচি, চম্পা, গোলাইচ, গুলঞ্চ, কাঠচাঁপা, গোলকচাঁপা, গরুড়চাঁপা, চালতা গোলাপের মতো রাশবাহারী নামও রয়েছে এই নান্দনিক ফুলটির তবে গোটা আমেরিকাতে একে বলে প্লুমেরিয়া আর অস্ট্রেলিয়াতে ফ্র্যাঞ্জিপেনি, হাওয়াইন লেই ফ্লাওয়ার, দক্ষিণ চীনে এগ ফ্লাওয়ার, ভেনিজুয়েলাতে এ্যামাপোলা। একে বিভিন্ন নামে ডাকা হলেও আমাদের কাছে এই ফুলটি একান্তই কাঠগোলাপ।
উদ্ভিদবিজ্ঞানে কাঠগোলাপের ইংরেজি নাম ফ্র্যাঞ্জিপেনি। এটি Apocynaceae পরিবারের এবং এটি  প্লুমেরিয়া বর্গ ও রুবরা প্রজাতির সদস্য।
কাঠগোলাপ গাছ দীর্ঘ ছালআবৃত, গুচ্ছ আকারে সরস ঘন বৃত্তাকার শাখাপ্রশাখায় বিস্তৃত। পাশাপাশি এর পাতাগুলো দীর্ঘল মাংসল প্রকৃতির। গাছটির কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা নরম এবং শাখা-প্রশাখা কম হয় বলে সোজা উপরের দিকে উঠে যায়। কাঠগোলাপ গাছ শীতল আবহাওয়া ও ঠাণ্ডার প্রতি সংবেদনশীল।
তাই এই গাছের পাতা শীতের শুরুর দিকে সব ঝড়ে পড়ে, দেখতে নিষ্পত্র হয়ে যায় গাছ। তখন  ন্যাড়া মাথার মতো দেখতে হয়। অন্য গাছের পাশে এটি যেন মরা কোন গাছ।
বসন্তে কাঠগোলাপ ফুল গাছ নতুন রূপে পাতায় সজ্জিত হয়, বেশ লম্বা আর বড় বড় পাতা হয়। শাখার শেষ অংশে ঘন বিন্যস্ত গুচ্ছ গুচ্ছ পাতা।
শুধু পাতার সৌন্দর্যও চোখে পড়ার মতো পরবর্তীকালে বসন্তের শেষভাগে বা গ্রীষ্মের শুরুতে এতে দৃষ্টিনন্দন ও সুগন্ধিযুক্ত ফুল ফুটতে শুরু করে। যখন মৌ মৌ সুগন্ধে কাণ্ডের ডগায় একগুচ্ছ ফুল তার সৌন্দর্য নিয়ে চুপটি করে বসে থাকে তখন তাকে লাস্যময়ী দেখায়।
কাঠগোলাপ ফুল সাদা, হলুদ, গোলাপী, লালসহ একাধিক রঙবাহারি হতে পারে। এই ফুলগুলো সুগন্ধ ছড়ায় তবে রাতের সময় সময় এর সুগন্ধ তীব্র হয়।
কাঠগোলাপ উদ্ভিদের সজীব ডাল দুধের মত সাদা রস বিশিষ্ট, কিন্তু এর এই রস বিষাক্ত। কাঠগোলাপ ফুলের গাছ বড় বা ছোট হতে পারে।
গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে কাঠগোলাপ গাছ ২০ ফুটের অধিক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। ফুলের ব্যাস হয় প্রায় দুই ইঞ্চি। কাঠগোলাপ ফুলগাছ সাধারণত লবণ এবং খরা-সহনশীল, তবে শুষ্ক বায়ুতে একে পানি সরবরাহ করতে হবে। সচরাচর যে কাঠগোলাপ দেখা  যায়, পাপড়ির রঙ হয় সাদা। একই ফুল লাল রঙেরও  হয়ে থাকে।
শুধু নান্দনিকতাই নয় এ গাছের রয়েছে নানান ব্যবহার। কাঠগোলাপ গাছের কাঠ সাদা, হালকা এবং নরম, এই কাঠ বাদ্যযন্ত্র, থালাবাসন এবং আসবাবপত্র বানানোর জন্য উপযোগী।
এই গাছ থেকে থেকে তেল, সুগন্ধি, লোশন ও মোম বানানো হয়। পাশাপাশি এর পাতা ফুলের তোড়াতেও ব্যবহার করা হয়। হাওয়াইতে এই ফুলকে ব্যবহার করা হয় মালা বানাতে আবার কোথাও কোথাও একে ব্যবহার করা হয় বিয়ের জয়মাল্য হিসেবে। এছাড়াও কাঠগোলাপ ফুল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রতার উৎস, পুজার উপকরণ।
বৌদ্ধরা এটিকে মৃত্যুহীন প্রাণের প্রতীক হিসেবে দেখেন। ভীনদেশী ফুল হলেও বাংলাদেশেও এই ফুলের উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর রমনা পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান, শিশু একাডেমির বাগান, জাতীয় জাদুঘর গেট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা মেলে এই মায়াবতীর।












কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন